যে কাজগুলো ফ্রিল্যান্সিং কন্টেন্ট রাইটিং পেশায় আপনি করতে পারেন

কন্টেন্ট রাইটিং হচ্ছে এমন একটি পেশা যা একই সাথে সম্মানের ও আনন্দের। আপনারা যারা লিখতে ও পড়তে ভালবাসেন তাদের জন্য যদি লিখাটাই পেশা হয়ে দাড়ায় তবে কেমন হয়! বর্তমান ডিজিটাল যুগে এখন আর আপনাকে লেখক হতে হলে বই বের করতে পাবলিশারের পিছনে ছুটতে হবে না। আপনি যদি মোটামোটি ভাল লিখতে পারেন, তাহলে অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে আপনার জন্য রয়েছে বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এক্ষেত্রে ইংরেজীতে দক্ষতা আপনাকে লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে অনায়াসে। ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহারের এই যুগে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে বিভিন্ন উদ্দেশে আর্টিকেল বা কন্টেন্ট লিখা হয়। ব্লগ আরটিকেল ছাড়াও প্রডাক্টের রিভিঊ, সার্ভিস/ অ্যাফিলিয়েট কন্টেন্ট, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল, সার্ভিস রিলেটেড বই, ব্রুশিয়ার, লিফলেট বা অন্যান্য প্রচারনার কাজে লেখকদের আর্টিকেল লিখার প্রয়োজন হয়।

সাধারণত যে ধরণের কাজ গুলো করতে হয় অনলাইনে –

  • Rewriting – কোন আর্টিক্যালের মূল তথ্য ঠিক রেখে আর্টিকেলটিকে নিজের ভাষায় লেখা যেন পরের লেখাটি প্রথম লেখার নকল না হয়। সাধারণত এ ধরণের আর্টিক্যাল ৪০০ – ৬০০ শব্দের হয়।
  • Short Article Writing – যেকোন বিষয়ে (১২০-১৭০) শব্দের মধ্যে লেখা তৈরি করে দিতে হয়। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট একটি বিষয়ের উপরই ৫ থেকে ৩০টির মত লেখা চাইতে পারে।
  • Article writing – কোনো বিষয়ে ৪০০-৮০০ শব্দের লেখা তৈরি করা, যা অবশ্যই ইউনিক অর্থাৎ নিজ থেকে লেখা হতে হবে যাতে তা কোন ভাবেই কোন লেখার সাথে না মিলে। এটি ধরা পড়লে এক্ষেত্রে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। এমন অনেক ফ্রি টুলস পাওয়া যায় যা নকল লেখা ধরে ফেলে, যাকে প্লাগারিজম ডিটেক্ট করা বলে।
  • Proof reading – মূলত এটা লেখার বানান, গ্রামার, স্টাইল ইত্যাদির ভুল শুধরে দেয়া, একই সাথে এডিটিং করে লেখাটিকে আরো আকর্ষণীয় ও নির্ভুল লিখে দেয়া। প্রুফ রিডিং বিষয়ে অনলাইন থেকে আপনি চাইলে পড়াশুনা করতে পারেন বা এ বিষয়ের উপর বই আছে, সেগুলোও পরে নিয়ম কানুন গুলো জেনে নিতে পারেন। তবে আপওয়ার্কে বিভিন্ন পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রয়েছে, যেখানে আপনি আপনার প্রফেশনাল স্কিলের লেভেল যাচাই করতে পারবেন।
  • Translate – বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে ইংরেজি টু বাংলা ও বাংলা টু ইংরেজির অনুবাদের কাজ পাওয়া যায়। তবে নিয়মিত মার্কেটপ্লেস গুলো বাদে প্রফেশনাল সাইট, যেমনঃ ট্রানস্লেটরসবেজডটকম, প্রজডটকম ইত্যাদি সাইটে কাজ পাওয়া যায়।
  • Transcript – এটি খুবই ভালো আয়ের সুযোগ করে দিতে পারে যদি আপনি দক্ষ হতে পারেন। ট্রান্সক্রিপ্ট কাজটি মূলত অডিও ফাইল শুনে বা ভিডিও ফাইল দেখে এবং সেখানে উচ্চারিত ইংরেজি হুবহু টাইপ করে দেবেন। এই কাজে উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারলে, এই কাজে সুযোগ আছে অনেক।
  • Summarization – সামারাইজ করা, কোন বিষয়ের উপর আর্টিক্যাল দিবে আপনাকে সেই ছোটবেলার মত সারাংশ লিখতে হবে। তবে হ্যা সামারাইজেশন এর প্রফেশনাল স্টাইলটি অবশ্যই ফলো করতে হবে। এর জন্য অনলাইনে প্রচুর রিসোর্স পাবেন যা থেকে আপনি ধারণা করতে পারবেন।
  • Press release and media – প্রেস রিলিজ বিভিন্ন পণ্য বা ওয়েবসাইটের জন্য লিখতে হতে পারে, এর সঠিক ফরমেট সম্পর্কে জানতে হবে। প্রেস রিলিজের কাজ একটু আলাদা। কেননা এতে মিডিয়ার ব্যাপার জড়িত ও ১০০% প্রফেশনাল ফরমেটে হওয়া চাই। যার কারনে অন্যান্য যেকোন কাজের চাইতে এই কাজে বেশি আয় করা যায় এবং কাজও ভালই পাওয়া যায়।
  • Resume and cover letter writing – এক্ষেত্রে কাজ পাওয়াটা যদিও কিছুটা তখনি চ্যালেঞ্জিং যখন আপনি সিভি/কভার লেটার লেখার প্রফেশনাল ফরমেট না জানেন। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে চাকুরির বাজারে বিভিন্ন পদ অনুযায়ী সিভি ও কভার লেটার লেখার নিয়ম জেনেরাখতে হবে। যেমনঃ একজন মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টিটিভ ও একজন ভিডিও এডিটর পোস্টের সিভি বা কভার লেখার ক্ষেত্রে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। যেগুলো আপনাকে বুঝে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে জানতে হবে।

আপনাকে ভাল ইংরেজি শেখার উপর বিশেষ জোর দিলেই কিন্তু আপনার প্রস্তুতি নেয়া হয়ে যাচ্ছে আর টাইপিং এ আমাদের সবার কমবেশি স্পিডটা প্র্যাক্টিসে চলেই আসে। কনটেন্ট রাইটিং এ বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার ডট কম ও ফাইবার মার্কেটপ্লেসে প্রচুর কাজ প্রতিদিন পোস্ট হয়। আপনার কাজের অভাব হবে না যদি আপনি নিজেকে সঠিক উপায়ে স্কিল্ড করে তুলতে পারেন। তাই শখের কাজটিকে পেশায় রূপান্তর করতে কাজে লেগে যান!

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *